Showing posts with label Geography Class XI. Show all posts
Showing posts with label Geography Class XI. Show all posts

Atlantic Ocean Current Class 11 Geography || আটলান্টিক মহাসাগরীয় সমুদ্রস্রোত একাদশ শ্রেণী || WBCHSE

আটলান্টিক মহাসাগরীয় সমুদ্রস্রোত

পশ্চিম উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল,  পূর্বে ইউরোপ আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিম উপকূল,  উত্তরে গ্রিনল্যান্ড এবং দক্ষিণে কুমেরু সাগর পরিবেষ্টিত ইংরেজি “S” অক্ষর বিশিষ্ট পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর আটলান্টিক অবস্থিত ।  এই মহাসাগরকে প্রায় মাঝ বরাবর নিরক্ষরেখা দুই ভাগে বিভক্ত করেছে যথা উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর।  পৃথিবীর আবর্তন,  নিয়ত বায়ু প্রবাহ,  বাষ্পীভবনের হ্রাস বৃদ্ধি,  লবণতার তারতম্য ইত্যাদি কারণে  আটলান্টিক মহাসাগরে  অসংখ্য সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।  অবস্থান অনুসারে এইসকল স্রোত গুলির পরিচয় নিচে দেওয়া হল -


  1. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের সমুদ্র স্রোত সমূহ


উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝ বরাবর প্রসারিত নিরক্ষরেখার  উত্তরে পৃথিবীর আবর্তন গতি ও উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে ১) উত্তর আটলান্টিক উষ্ণ নিরক্ষীয় স্রোতের উৎপত্তি লাভ করে পশ্চিমে অগ্রসর হয় এবং পশ্চিম ক্যারিবিয়ান সাগরে দক্ষিণ নিরক্ষীয় একটি শাখায় মিলিত হয়ে ২)  ক্যারিবিয়ান স্রোত নামে মেক্সিকোর উপকূল বরাবর উষ্ণ স্রোত রূপে অগ্রসর হয়। ৩) কুমেরু সাগর থেকে শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে মিলিত হয়ে  হিমপ্রাচীর গড়ে তোলার পর পশ্চিমা বায়ু তাড়িত হয়ে ৪) উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত নামে পূর্ব দিকে ধাবিত হয়। উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত থেকে একটি শাখা ৫) শীতল ক্যারিবিয়ান স্রোত নামে উৎস অঞ্চলের ফিরে আসে এবং ৬) এর একটি শাখা গিনি স্রোত নামে দক্ষিনে অগ্রসর হয় এবং অপর একটি শাখা ৭) উষ্ণ আটলান্টিক স্রোত নামে ব্রিটেনের উত্তর উপকূল দিয়ে সুমেরু ও কুমেরু সাগরে প্রবেশ করে এবং এর একটি শাখা ৮  ) গ্রীনল্যান্ড স্রোত নামে আইসল্যান্ড কে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দক্ষিনে এগিয়ে আসে।  উপসাগরীয় স্রোতের অপর একটি শাখা উষ্ণ স্রোত রূপে গ্রীনল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তে ঘুরে সুমেরু সাগর থেকে আসা শীতল  ল্যাব্রাডর স্রোতের বিপরীতে গমন করে যাকে ৯)  পশ্চিম গ্রীনল্যান্ড স্রোত বলে। 


উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান প্রধান এই স্রোত গুলি উপকূল বরাবর চক্রাকারে আবর্তিত হাওয়ায় উত্তর আটলান্টিকের মধ্যভাগের  জল প্রায় আলোড়নহীন অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার শৈবাল ও আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।  তাই উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্য ভাগ  শৈবাল সাগর নামে পরিচিত। 


  1. দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত সমূহ


নিরক্ষরেখার দক্ষিণে সৃষ্ট উষ্ণ দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত আয়ন বায়ু তাড়িত হয়ে পশ্চিমা ব্রাজিল উপকূলের  দিকে প্রবাহিত হয় যার একটি শাখা ক্যারিবিয়ান সাগরে উত্তর আটলান্টিক স্রোত এর সাথে মিলিত হয় এবং অপর শাখাটি ১১) উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত নামে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণে প্রবাহিত হয়।  কুমেরু সাগর থেকে আগত শীতল  কুমেরু স্রোতের একটি শাখা ১২) ফকল্যান্ড দ্বীপের পাশ দিয়ে শীতল ফকল্যান্ড স্রোত নামে উত্তরে এগিয়ে আসে এবং উষ্ণ ব্রাজিল স্রোতের  সাথে মিলিত হয় পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহে শীতল স্রোত রূপে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। ১৩) এই শীতল স্রোত ও শীতল কুমেরু সাগরের  কুমেরু স্রোতের  একটি শাখা আফ্রিকার দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলবরাবর প্রবাহিত হয়ে ১৪)  শীতল বেঙ্গুয়েলা  স্রোত নামে উত্তর দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত এর সাথে মিলিত হয় এবং এর একটি শাখা সরাসরি উত্তরে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত থেকে নেমে আসা গিনি স্রোত আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে পরস্পর মিলিত হয়। প্রসঙ্গত কুমেরু স্রোতের একটি শাখা সরাসরি পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে।


দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের গোধূলি উপকূল বরাবর চক্রাকারে আবর্তিত হয়, তাই দক্ষিণ আটলান্টিক  মহাসাগরের তুলনামূলকভাবে আলোর অবস্থায় থাকে । তবে দক্ষিণ গোলার্ধে জলভাগের পরিমান বেশি থাকায় বিনা বাধায় বয়ে চলা প্রবল বায়ুপ্রবাহে সমুদ্র তরঙ্গের প্রভাব অনেক বেশি থাকে,  ফলে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মত এখানে আগাছা জন্মায় তত বেশি প্রকট নয়। 


উত্তর ও দক্ষিণ উষ্ণ আটলান্টিক স্রোত দুটি পশ্চিমে অগ্রসর হয় এবং এর পাশাপাশি দুটি স্রোত পশ্চিম থেকে পূর্বে অগ্রসর হয় যা উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয়  প্রতিস্রোত নামে পরিচিত।
Share:

সুয়েজ খালপথ ও পানামা খালপথের পার্থক্য

সুয়েজ খালপথ ও পানামা খালপথের পার্থক্য


আন্তর্জাতিক বাণিজ্য  পথ হিসাবে পানামা খালপথ এবং সুয়েজ খালপথ অতি গুরুত্বপূর্ণ।  তবে এই খালপথ দুটির মধ্যে বেশকিছু সুস্পষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে।  অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিচারে  সুয়েজ খালপথ ও পানামা খালপথের  পার্থক্য  গুলি নিম্নরূপ - 


সুয়েজ খাল পথ

পানামা খাল পথ

১) সুয়েজ খাল পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই খাল পথ চালু হয়। 

১) পানামা খাল পথ পশ্চিম গোলার্ধে অবস্থিত এবং বিংশ শতাব্দীতে এই খাল পথ চালু হয়। 

২)   সুয়েজ ক্যানাল  অথরিটি নামে একটি সংস্থার উপর সুয়েজ খাল পথের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ভার দেওয়া আছে। 

২) পানামা খাল পথ পানামা রাষ্ট্রের অন্তর্গত হলেও চুক্তি অনুসারে এই খাল পথ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে। 

৩) সুয়েজ খাল পথের দৈর্ঘ্য 116 কিমি,  প্রস্থ 56 মিটার  এবং গভীরতা প্রায় 10 মিটার। 

৩) পানামা খাল পথের দৈর্ঘ্য 80 কিমি,  প্রস্থ প্রায় 91 থেকে 300 মিটার এবং গভীরতা প্রায় 13 মিটার। 

৪) সুয়েজ খাল অতিক্রম করতে জাহাজ  গুলির প্রায় 12 ঘন্টা সময় লাগে। 

৪) পানামা খাল অতিক্রম করতে জাহাজ গুলির প্রায় 7 ঘন্টা সময় লাগে। 

৫) সুয়েজ খাল সমুদ্র সমতলে  অবস্থিত তাই লকগেট তৈরি করে জলতল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়না। 

৫) পানামা খাল সমুদ্র সমতল থেকে 26 মিটার উঁচুতে অবস্থিত তাই 6  টি লকেট এর সাহায্যে  জলতল নিয়ন্ত্রণ করে  জাহাজ গুলোকে চলাচল করতে হয়। 

৬) সুয়েজ খাল পথের তীরবর্তী অঞ্চল জনবহুল এবং বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদে  সমৃদ্ধ তাই এই পথে উভয় তীর বরাবর অসংখ্য বন্দর গড়ে উঠেছে। 

৬) পানামা খাল পথ সংলগ্ন অঞ্চল বিরল জনবসতিপূর্ণ তাই অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি কম বলে খাল পথ মধ্যে বন্দরের সংখ্যা নগণ্য। 

৭) সুয়েজ খাল পথের শুল্ক হার যথেষ্ট বেশি। 

৭) পানামা খাল পথের শুল্ক হার তুলনামূলক অনেক কম। 

৮ ) সুয়েজ খাল দ্বারা পণ্য এবং যাত্রী উভয়ই পর্যাপ্ত হারে চলাচল করে। 

৮ ) পানামা খাল পথে  যাত্রী চলাচল তুলনামূলকভাবে কম। 

৯) খনিজ তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি  থেকে সারা বিশ্বে  বাণিজ্যিক আদান-প্রদান হয় বলে এই খাল পথের অর্থনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব বেশি। 

৯) পানামা খালের সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম। 

১০) সুয়েজ খাল প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন ঘটিয়েছে।  তাই এই খাল পথ বেশি ব্যবহার করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশ গুলি। 

১০) উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উপকূলের যোগসুত্র প্রতিষ্ঠা করেছে পানামা খাল।  এই পথের ব্যবহার আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বেশি করে থাকে। 

১১) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আদান-প্রদান সুয়েজখালে বেশি ব্যবহৃত হয় ।

১১) আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক আদান প্রদান পানামা খালের দ্বারা বেশি হয়। 



Share:

Popular Posts

Recent Posts

Total Pageviews